বেড়েই চলেছে দাম

সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে সরকার

উৎপাদন ও মজুদ মৌসুমের শেষ দিকে এসে দেশে সংকট দেখা দিয়েছে পেঁয়াজের সরবরাহে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

উৎপাদন ও মজুদ মৌসুমের শেষ দিকে এসে দেশে সংকট দেখা দিয়েছে পেঁয়াজের সরবরাহে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় আমদানির পরিমাণ রাখা হচ্ছে সীমিত। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে দাম না কমলে আমদানির অনুমতি দেয়া হবে। উপদেষ্টার এ ঘোষণার পর কয়েকদিন দাম স্থির থাকলেও গত দুইদিন আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ রয়েছে। অনুমতি চেয়ে কয়েক হাজার আবেদন পড়ে থাকলেও দেশের কৃষকের স্বার্থে সরকার তাতে সায় দেয়নি। ফলে চলতি মৌসুমে দীর্ঘ সময় লাভজনক দামেই স্থিতিশীল ছিল কৃষিপণ্যটি। এক মাস আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ টাকায়। খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে নতুন উৎপাদন মৌসুম আসার আগে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়েছে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ গতকাল পাইকারি বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১১২ টাকা কেজি। মূলত পেঁয়াজের আকার ছোট-বড় হলেই দাম ওঠানামা করে। সরবরাহ না বাড়লে নিত্যপণ্যটির দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার সচেষ্ট। ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়তে থাকায় সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে। অনুমতি দেয়া পেঁয়াজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে পৌঁছবে।’ তবে সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানির অনুমতি নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত দুই সপ্তাহ পর দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে সক্ষম হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ১০২ টন। গত অর্থবছরে আমদানি হয় ১৪ হাজার ২৪৭ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানি হয় ৩ হাজার ২০৯ টন। সমুদ্রপথে মূলত চীন, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানি হয় স্থলবন্দর দিয়ে। এক সময় দেশে প্রতি বছর ১০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা অর্ধেকে নেমে আসে। তবে দুই অর্থবছর ধরে আমদানির পরিমাণ আরো কমে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অক্টোবর থেকে রবি মৌসুম শুরু হওয়ায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কন্দ বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু হবে। তবে এ সময় পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পণ্যটির আমদানি জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে এ বছর পেঁয়াজ আমদানি খুবই কম হয়েছে। ফলে দেশীয় পেঁয়াজের ওপর গোটা দেশের চাহিদা মেটানো হয়েছে। এখন মৌসুমের শেষ দিকে মজুদ ফুরিয়ে আসায় দাম বেড়েছে। তবে উৎপাদন মৌসুম শুরুর আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সীমিত আকারে হলেও আমদানির অনুমতি দিতে হবে।’ কৃষককে সব সময় সুরক্ষা দেয়া হলে আগামীতে বাংলাদেশ চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী।

আরও